ভারতীয় ভিসা - Indian Visa - Emon Online Service

ভারতীয় ভিসা

ভারতের মেডিকেল, টুরিস্ট, স্টুডেন্ট, বিজনেসসহ সব ধরনের ভিসার অনলাইন আবেদন, কাগজপত্র যাচাই ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট — সহজ, দ্রুত ও নিরাপদভাবে আমরা করে দিই। নিচে দেখে নিন কোন ভিসার জন্য কী কী কাগজ লাগবে।

ভারতীয় ভিসার জন্য কী কী কাগজ লাগে

ভারতীয় হাইকমিশন, ঢাকা-এর সর্বশেষ ক্যাটাগরিভিত্তিক তালিকা অনুযায়ী সহজ বাংলায়। প্রথমে সব ভিসার সাধারণ কাগজ, তারপর আর্থিক ও পেশার প্রমাণ, এরপর প্রতিটি ভিসার জন্য আলাদা কাগজ।

📋 সব ভিসার জন্য সাধারণ কাগজপত্র

  • মূল পাসপোর্ট — আবেদন জমার দিন থেকে কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদ থাকতে হবে এবং অন্তত ২টি খালি পাতা থাকতে হবে
  • সব পুরনো পাসপোর্ট আবেদনের সাথে জমা দিতে হবে
  • ১ কপি সাম্প্রতিক রঙিন ছবি — ২×২ ইঞ্চি, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড, পুরো মুখ দেখা যাবে
  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা জন্ম নিবন্ধনের কপি (যেটি প্রযোজ্য)
  • বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ — বিদ্যুৎ বিল অথবা গ্যাস বিল অথবা ল্যান্ডফোন বিলের কপি (৬ মাসের বেশি পুরনো নয়)
  • অনলাইনে পূরণ করা ভিসা আবেদন ফর্ম

💰 আর্থিক প্রমাণ (নিচের যেকোনো একটি)

  • গত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট — পর্যাপ্ত টাকা দেখাতে হবে
  • অথবা জনপ্রতি কমপক্ষে ২০০ মার্কিন ডলার এনডোর্সমেন্ট — জমা দেওয়ার সময় ৩ মাসের বেশি পুরনো নয়
  • অথবা ইন্টারন্যাশনাল ক্রেডিট কার্ড / ট্রাভেল কার্ড (যেমন SBI ট্রাভেল কার্ড)-এর কপি ও তার জমার স্টেটমেন্ট

💼 পেশার প্রমাণ (যেটি প্রযোজ্য)

  • সরকারি চাকরিজীবী — সরকারি আদেশের (GO) কপি
  • বেসরকারি চাকরিজীবী — প্রতিষ্ঠানের সার্টিফিকেট
  • নিজের ব্যবসা — সরকারি নিবন্ধন / ট্রেড লাইসেন্সের কপি (ইংরেজি না হলে ইংরেজি অনুবাদসহ)
  • ছাত্র-ছাত্রী — শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ডের কপি
  • অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী — অবসরের কাগজের কপি
⚠️ জরুরি সতর্কতা
  • পাসপোর্ট, পুরনো পাসপোর্ট, NID ও জন্ম নিবন্ধনে জন্মতারিখ ও জন্মস্থান একই হতে হবে
  • সব পুরনো পাসপোর্ট জমা না দিলে আবেদন অসম্পূর্ণ ধরা হবে
  • ভুয়া ডলার এনডোর্সমেন্ট দিলে ভিসা বাতিল হয়ে যাবে
  • সব ধরনের ভিসার কাগজ নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখ ও সময়ে জমা দিতে হয়
  • এই তালিকা চূড়ান্ত নয় — ভারতীয় হাইকমিশন প্রয়োজনে অতিরিক্ত কাগজ চাইতে পারে
T-1

টুরিস্ট ভিসা

বেড়ানো, আত্মীয়-বন্ধুর সাথে দেখা, তীর্থযাত্রা ইত্যাদির জন্য।

✔ সাধারণ কাগজপত্র✔ আর্থিক প্রমাণ✔ পেশার প্রমাণ

সাধারণ কাগজ, আর্থিক প্রমাণ ও পেশার প্রমাণ দিলেই হবে।

M-1 / M-2

মেডিকেল ভিসা

M-1 রোগীর জন্য, M-2 রোগীর সঙ্গী (মেডিকেল অ্যাটেনডেন্ট)-এর জন্য।

✔ সাধারণ কাগজপত্র✔ আর্থিক প্রমাণ✔ পেশার প্রমাণ

এর সাথে আরও লাগবে:

  • দেশের ডাক্তারের দেওয়া রোগ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজ ও মেডিকেল রিপোর্ট
  • ভারতের সরকারি অথবা ICMR / NABH / MCI / CGHS স্বীকৃত হাসপাতালের অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার
  • ইনভাইটেশন লেটারের (আমন্ত্রণপত্র) কপি
  • কিডনি, লিভার ইত্যাদি অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MOFA) ছাড়পত্র

রোগী অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে বাবা/মা বা অভিভাবককে অবশ্যই অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে যেতে হবে — তাঁরা M-2 ভিসায়, আর তাঁদের ওপর নির্ভরশীল অন্য ভাই-বোন বা শিশু X-Misc ভিসায় আবেদন করবে। অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদেরও মেডিকেল ও অ্যাটেনডেন্ট ভিসা নেওয়া উচিত।

M-3 / M-4

আয়ুষ মেডিকেল ভিসা

আয়ুর্বেদ, যোগ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা, ইউনানি, সিদ্ধা ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার জন্য (M-4 সঙ্গীর জন্য)।

✔ সাধারণ কাগজপত্র✔ আর্থিক প্রমাণ✔ পেশার প্রমাণ

এর সাথে আরও লাগবে:

  • দেশের ডাক্তারের দেওয়া রোগ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজ ও মেডিকেল রিপোর্ট
  • সরকারি স্বীকৃত বা NABH / NCH / NCISM স্বীকৃত আয়ুষ হাসপাতাল / ওয়েলনেস সেন্টারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার
  • ইনভাইটেশন লেটারের কপি

রোগী অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে বাবা-মা M-4 ভিসায় এবং নির্ভরশীল ভাই-বোন X-Misc ভিসায় আবেদন করবে।

S

স্টুডেন্ট ভিসা

S-1 উচ্চশিক্ষা, S-2 স্কুল, S-3 যোগ/সংগীত/নৃত্য/ভাষা, S-4 গবেষণা, S-5 ইন্টার্নশিপ।

✔ সাধারণ কাগজপত্র✔ আর্থিক প্রমাণ✔ পেশার প্রমাণ

এর সাথে আরও লাগবে:

  • ভারতের সরকারি বা সরকার-অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের ভর্তির চিঠি (বোনাফাইড লেটার)
  • গ্যারান্টরের ব্যাংক সলভেন্সির কাগজ
  • মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন হলে আগের ভিসা / রেসিডেন্ট পারমিটের কপি
  • ভারতের মেডিকেল কলেজে ভর্তি হলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের NOC

১৮ বছরের কম বয়সী S-1/S-2 শিক্ষার্থীর বাবা-মা/অভিভাবক X-Misc ভিসায় যেতে পারবেন। S-1, S-3, S-4 ভিসাধারীর পরিবার ফ্যামিলি ভিসায় আবেদন করতে পারবে।

B-1

বিজনেস ভিসা

সাধারণ সব ব্যবসায়িক কাজের জন্য।

✔ সাধারণ কাগজপত্র✔ আর্থিক প্রমাণ: গত ২ বছরের আয়কর রিটার্ন / অডিট হিসাব (বার্ষিক আয় কমপক্ষে ৫ লাখ)✔ পেশার প্রমাণ

এর সাথে আরও লাগবে:

  • বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানের চিঠি — আবেদনকারীর পদবি ও ভ্রমণের উদ্দেশ্যসহ
  • ভারতের নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের (RBI, MCCI, FICCI, ASSOCHAM, CII, NASSCOM ইত্যাদি অনুমোদিত) আমন্ত্রণপত্র — কোন শহরে ও কত দিন তা উল্লেখসহ
  • চেম্বার অব কমার্স বা বাংলাদেশ ব্যাংক, বিনিয়োগ বোর্ড, BEPZA, FBCCI, DCCI ইত্যাদির সদস্যপদ সনদ / সুপারিশপত্র
  • TIN-সহ বৈধ ট্রেড লাইসেন্সের কপি
  • প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক স্টেটমেন্ট — বার্ষিক লেনদেন কমপক্ষে ৫০ লাখ
  • আমদানি-রপ্তানিকারক হলে IRC ও ERC, এবং ভারতের প্রতিষ্ঠানের সাথে শেষ ৩টি বা আসন্ন লেনদেনের LC / TT-এর কপি
  • চাকরিজীবী হলে পদবি, মেয়াদ ও মাসিক বেতনসহ চাকরির চুক্তিপত্র
  • মেলা / প্রদর্শনীতে গেলে আয়োজকদের আমন্ত্রণপত্র
  • লিমিটেড কোম্পানি হলে মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন এবং ইনকর্পোরেশন সার্টিফিকেট
  • বাংলাদেশে কোনো কোম্পানির শাখা / লিয়াজোঁ অফিসের প্রতিনিধি হলে বিনিয়োগ বোর্ডের অনুমোদনের কপি
  • ট্রাভেল এজেন্সি হলে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অনুমতিপত্র ও হালনাগাদ ATAB সদস্যপদ

পরিবারের সদস্য আলাদা আবেদন করলে (B1-X) মূল ভিসাধারীর ভিসার কপি দিতে হবে।

B-2 / B-3 / B-5

অন্যান্য বিজনেস ভিসা

B-2 খেলোয়াড় ও কোচ, B-3 শিল্পী ও সাংস্কৃতিক পারফরম্যান্স, B-5 কনফারেন্স / সেমিনার / ওয়ার্কশপ।

✔ সাধারণ কাগজপত্র✔ পেশার প্রমাণ (B-5)

এর সাথে আরও লাগবে:

  • B-2: ভারতের সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া ফেডারেশনের আমন্ত্রণপত্র; ভারতের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র; আগের খেলায় পাওয়া অর্থের কর পরিশোধের প্রমাণ
  • B-3: ভারতের অনুষ্ঠান আয়োজকদের আমন্ত্রণপত্র; নিজের প্রতিষ্ঠানের পরিচিতিপত্র; আগের পারফরম্যান্সে পাওয়া অর্থের কর পরিশোধের প্রমাণ
  • B-5: অনুষ্ঠান আয়োজকদের আমন্ত্রণপত্র; নিজের প্রতিষ্ঠানের পরিচিতিপত্র; ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ছাড়পত্র
E-1

ওয়ার্ক ভিসা

ভারতে চাকরি / কাজের জন্য।

✔ সাধারণ কাগজপত্র✔ পেশার প্রমাণ

এর সাথে আরও লাগবে:

  • ভারতের নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র — কাজের ধরন উল্লেখসহ
  • ভারতের প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ / চুক্তির প্রমাণ
  • দুই দেশের সরকারি চুক্তিতে বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগ হলে নিয়োগের কাগজ ও চুক্তির কপি
J-1

জার্নালিস্ট ভিসা

সাংবাদিক, ফটোগ্রাফার, ডকুমেন্টারি নির্মাতা, রেডিও-টিভি প্রতিনিধি, ট্রাভেল রাইটার।

✔ সাধারণ কাগজপত্র✔ আর্থিক প্রমাণ

এর সাথে আরও লাগবে:

  • নিয়োগকর্তা বা মিডিয়া হাউসের চিঠি
  • ভারত থেকে আমন্ত্রণপত্র (থাকলে)

সাংবাদিকরা কনফারেন্স, বেড়ানো, চিকিৎসা বা আত্মীয়ের সাথে দেখা — যেকোনো কাজে ভারতে গেলে শুধু J-1 ভিসায় আবেদন করবেন।

X-1

ভারতীয় নাগরিকের স্বামী/স্ত্রী ও সন্তান

ভারতীয় নাগরিককে বিয়ে করা বাংলাদেশি বা তাঁদের সন্তানদের জন্য।

✔ সাধারণ কাগজপত্র✔ পেশার প্রমাণ

এর সাথে আরও লাগবে:

  • ভারতীয় স্বামী/স্ত্রীর ভারতের ঠিকানার প্রমাণ
  • স্বামী/স্ত্রীর ভোটার কার্ড / আধার কার্ড
  • বিবাহ সনদ / কাবিননামা — বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অ্যাপোস্টিল ও ভারতীয় হাইকমিশন, ঢাকা-এর সত্যায়নসহ
  • ভারতীয় স্বামী/স্ত্রী বা (সন্তানের ক্ষেত্রে) বাবা/মায়ের পাসপোর্টের কপি
X-3

ডাবল এন্ট্রি ভিসা

ভারতে গিয়ে এমন দেশের দূতাবাসে ভিসা আবেদনের জন্য, যে দূতাবাস ভারত ও বাংলাদেশ দুই দেশের দায়িত্বে।

✔ সাধারণ কাগজপত্র✔ আর্থিক প্রমাণ✔ পেশার প্রমাণ

এর সাথে আরও লাগবে:

  • ভারতে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট বিদেশি দূতাবাস / হাইকমিশনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট কনফার্মেশনের কপি
  • পড়াশোনার জন্য গেলে বিশ্ববিদ্যালয় / প্রতিষ্ঠানের ভর্তির নিশ্চয়তাপত্র
  • চাকরির জন্য গেলে চাকরির চুক্তিপত্র
  • পরিবারের কাছে গেলে রেসিডেন্ট পারমিট ও বর্তমান ভিসার কপি
TR

ট্রানজিট ভিসা

ভারতের ভেতর দিয়ে অন্য দেশে যাওয়ার জন্য।

✔ সাধারণ কাগজপত্র✔ আর্থিক প্রমাণ✔ পেশার প্রমাণ

এর সাথে আরও লাগবে:

  • যে দেশে যাবেন সেই দেশের বৈধ ভিসা
  • পরবর্তী যাত্রার কনফার্ম টিকিট
  • ওই দেশের হোটেল বুকিং

নেপাল ও ভুটানের জন্য ডাবল এন্ট্রি ট্রানজিট ভিসা দেওয়া হয় — যাওয়া ও আসার পথে ভারতে ৩ দিন করে থাকা যায়। ভারতের বন্দর থেকে জাহাজে যোগ দিতে যাওয়া বাংলাদেশি নাবিকদেরও ট্রানজিট ভিসা নিতে হয় (DG-Shipping-এর অনুমতি, সিম্যান বুক ইত্যাদি লাগে)।

➕ কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাগজ

  • মুক্তিযোদ্ধা: মুক্তিযোদ্ধা সনদ এবং গেজেটের কপি (থাকলে)
  • কর্মরত / অবসরপ্রাপ্ত সেনা, প্যারামিলিটারি বা পুলিশ সদস্য: নির্ধারিত ডিফেন্স ফর্ম (IVAC ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়)

তথ্যসূত্র: ভারতীয় হাইকমিশন, ঢাকা — “Visa Documents: Category-wise”। নিয়ম মাঝে মাঝে বদলায়, তাই আবেদনের আগে আমাদের সাথে একবার মিলিয়ে নিন।

Scroll to Top